করোনার প্রতিরোধে নিন হোমিওপ্যাথী মেডিসিন আর্সেনিক এলবাম-৩০
রুদ্রাসাগর কুন্ডু
লকডাউনের শুরু থেকেই পৃথিবীব্যাপী তাবড় তাবড় হোমিওপ্যাথী চিকিৎসকেরা বলেছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সংক্রমণের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে। সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একটি ছোট্র ভিডিও ইউটিউবে দেখতে পেয়েছিলাম। তাতে পরিষ্কার বলা ছিল, করোনার প্রতিষেধক হিসেবে সকাল বিকেল ২ ফোটা করে হোমিওপ্যাথি মেডিসিন, আর্সেনিক এলবাম-৩০ ৩ দিন ধরে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে একই সময়ে গ্রহণ করতে। বিভিন্ন জাতীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যম এই বিষয়ে খোঁজখবর করলে সরকারের ``আয়ুষ্মন্ত্রক বিভাগ'' ঘোষণার সত্যতা স্বীকার করেন।
এরপর দেশের বিভিন্নপ্রান্তে সফল ও জনপ্রিয় প্রাক্টিসরত হোমিওপ্যাথী ডাক্তাররা করোনার প্রতিষেধক হিসেবে, আর্সেনিক এলবাম-৩০, জেলসিমিয়াম-২০০, ব্রাইয়োনিয়া-৩০, জাস্টিশিয়া-৩০ ও এসপিডসফরমা মাদারটিংচারের উল্লেখ করেন। আমি বিভিন্নভাবে এইসব মেডিসিনের বিষয়ে পড়াশোনা করে বিস্তারিত জেনে দেখলাম, মেডিসিনের মানসিক লক্ষন ও শারীরিক লক্ষন অনুযায়ী করোনা সম্পর্কিত উপসর্গের সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে। এবং আমি আমার পরিবারের সকল সদস্যের সঙ্গে এটি নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করি। এবং প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহের ৩ দিন এটি গ্রহণ করব নিয়মিত। কেননা, আপনারা সকলেই জানেন, যে কোনো ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের প্রতিষেধক হিসেবে আর্সেনিক এলবাম-৩০ ব্যাবহৃত হয়।
ভীষণ শারীরিক দুর্বলতা, অস্থিরতা ও মৃত্যুভয়, দিনের মধ্যভাগে বা রাতের মধ্যভাগে অর্থাৎ একই সময়ে রোগের বৃদ্ধি, প্রবল পিপাসা থাকা সত্ত্বেও ক্ষনে ক্ষনে স্বল্প জলপান, এবং জলপান করার সঙ্গে সঙ্গেই বমি, জ্বালাযন্ত্রণা ও মল-মূত্র-শ্বাস-প্রশ্বাস দুর্গন্ধময় ... । এইগুলি মোটের ওপর আর্সেনিক এলবামের মানসিক ও শারীরিক লক্ষণ। অর্থাৎ, আর্সেনিকের রোগীর, রোগ-ভোগের সময় এমন লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে।
অনেকে ভাবতে পারেন করোনা হলে হয়তো এমন লক্ষণ প্রকাশ পায়। না, এমন কোনো কথা নেই। আর্সেনিক যে কোনো ভাইরাল ফ্লু বা ভাইরাস সংক্রমণের প্রতিষেধক বলে মনে করেন হোমিওপ্যাথরা। কিন্তু রোগাক্রমণ হলে, রোগের গতি ও পরিণতি বুঝে, মানসিক ও শারীরিক লক্ষণের ওপর নির্ভর করে মেডিসিন নির্বাচিত করা হয়। সেজন্য, কোনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মেডিসিন গ্রহণ করা উচিত নয়। আমিও একজন ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করেই মেডিসিন গ্রহণ করি। আর্সেনিক এলবাম-৩০ ব্যাতিত জেলসিমিয়াম-২০০, ব্রাইয়োনিয়া-৩০, জাস্টিশিয়া-৩০ ও এসপিডসফারমা মাদারটিংচারের উল্লেখ করেছেন ডাক্তারেরা।
অর্থাৎ, হোমিওপ্যাথিতে কোনো রোগের প্রকৃতি সমস্ত রোগীর শরীরে একই রকম উপসর্গ নিয়ে আসে না। রোগীর শারীরিক ও মানসিক পার্থক্যের সঙ্গে উপসর্গরও পার্থক্য দেখা যায়। সে কারণে, মেডিসিন প্রয়োগেও বিভিন্নতা দেখা দেয়। আর্সেনিক প্রতিষেধক হিসেবে গ্রহণ করুন। কিন্তু তারপরেও কোনো ধরণের রোগাক্রমণ বা উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন